কপার সালফেট , অ্যামোনিয়াম সালফেট ও সাবান

0
289

কপার সালফেট বা ব্লু ভিট্রিয়ল, অ্যামোনিয়াম সালফেট এবং সাবানের প্রকৃতি ও ব্যবহার সম্বন্ধে এই অধ্যায়ে আলোচনা করব বিস্তারিতভাবে।

কপার সালফেট বা ব্লু ভিট্রিয়লের প্রকৃতি

  • ক) কঠিন এবং নীল বর্ণের কেলাসিত অজৈব লবণ।
  • খ) এর প্রতি অণুতে 5 অনু কেলাস জল আছে।
  • গ) ব্লু ভিট্রিয়ল উত্তপ্ত করলে 250 ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড উষ্ণতায় এই গ্লাস জল বের হয়ে যায় এবং কেলাস গঠন ভেঙ্গে সাদা গুঁড়ো পরিণত হয়। একেই অনার্দ্র কপার সালফেট বলে।
  • ঘ) তীব্রভাবে উত্তপ্ত করলে 750 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় কাল কিউপ্রিক অক্সাইড এ পরিণত হয়।
  • ঙ) অতিরিক্ত অ্যামোনিয়ার জলীয় দ্রবণের সঙ্গে বিক্রিয়ায় কারো নীল বর্ণের কিউপ্রো অ্যামোনিয়াম সালফেট উৎপন্ন হয়।
  • চ) জলে দ্রাব্য, জলীয় দ্রবণে আদ্র বিশ্লেষিত হয় এসিডের ধর্ম প্রকাশ পায়।

কপার সালফেট বা ব্লু ভিট্রিয়লের ব্যবহার

  • ক) কপার প্লেটিং, ইলেক্ট্রো টাইপিং,এবং ধাতব কভারের সদনে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ ব্যবহৃত হয়।
  • খ) কীটনাশক দ্রব্য প্রস্তুতিতে এবং রং শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
  • গ) গ্যাস অথবা অন্যান্য তরলে জলের উপস্থিতি পরীক্ষার জন্য অনাদ্র কপার সালফেট ব্যবহৃত হয়।
  • ঘ) পরীক্ষাগারে বিকারক রূপে ব্যবহৃত হয়।
  • ঙ) ড্যানিয়েল কোষ এর ব্যবহার আছে

অ্যামোনিয়াম সালফেট

পেট্রোল বা গ্যাসোলিন, কেরোসিন এবং মিথিলেটেড স্পিরিট

অ্যামোনিয়াম সালফেটের প্রকৃতি

  • ক) অ্যামোনিয়াম সালফেট সাদা রঙের একটি অজৈব কেলাসিত লবণ। অ্যামোনিয়ার সঙ্গে গারো সালফিউরিক এসিডের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়।
  • খ) জলে দ্রাব্য, জলীয় দ্রবণ তড়িৎ পরিবাহী।
  • গ) তাপে উর্ধ্বপাতিত হয়
  • ঘ) তীব্র ক্ষার মেশালে অ্যামোনিয়া উৎপন্ন করে।
  • ঙ) জলীয় দ্রবণে অ্যাসিড ধর্ম প্রকাশ পায়

অ্যামোনিয়াম সালফেটের ব্যবহার

  • ক) অ্যামোনিয়াম সালফেট একটি অজৈব নাইট্রোজেন ঘটিত সার, সার রূপে ব্যবহার করা হয়।
  • খ) পরীক্ষাগারে বিকারক রূপে ব্যবহার করা হয়।
  • গ) ফটকিরি এবং অন্যান্য অ্যামোনিয়াম লবণ প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়।

সাবান

সাবানের প্রকৃতি

সাবান হলো উচ্চ আনবিক ওজন বিশিষ্ট জৈব ফ্যাটি এসিডের (যেমন স্টিয়ারিক এসিড, অলিক এসিড, পামিটিক অ্যাসিড ইত্যাদি) সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ। সাধারণ উষ্ণতায় কঠিন, জলে দ্রাব্য। সাবান এর জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয়। জলে মিশে ফেনা উৎপন্ন করে।
সাবান তৈরির জন্য নারকেল তেল, তিলের তেল, তুলা বীজ তেল এবং প্রাণিজ চর্বি ব্যবহার করা হয়। এই তেলের সঙ্গে তীব্র ক্ষার যেমন সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর বিক্রিয়ায় সাবান উৎপন্ন হয়। এই বিক্রিয়াকে সাবানীভবন বলে।
সাবান জলে মেশালে আদ্র বিশ্লেষণ ঘটে ক্ষার উৎপন্ন করে, সেই জন্য পিচ্ছিল বোধ হয়।

ব্লিচিং পাউডার : প্রকৃতি ও ব্যবহার

সাবানের ব্যবহার

ক) জামা কাপড় পরিষ্কার করতে এবং দেহের ময়লা দূর করতে সাবান ব্যবহার করা হয়।
খ) জীবাণু নাশক হিসেবেও কার্বলিক সাবান ব্যবহার করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here