Home পদার্থ বিজ্ঞান শক্তির রূপান্তর | শক্তির প্রকারভেদ | শক্তির নিত্যতা সূত্র|উৎস

শক্তির রূপান্তর | শক্তির প্রকারভেদ | শক্তির নিত্যতা সূত্র|উৎস

by CompleteGyan
Energy Completegyan.com
সূচীপত্র hide

শক্তির রূপান্তর ঃ শক্তির প্রকারভেদ – শক্তির নিত্যতা সূত্র – শক্তির উৎস

শক্তির রূপান্তর এবং শক্তির প্রকারভেদ সম্বন্ধে জানতে হলে আগে আমাদের শক্তি কি তা বুঝতে হবে।

শক্তি (Energy in Bengali)

পদার্থের সঙ্গে যুক্ত থেকে পদার্থের ক্রিয়া-কলাপ যে নিয়ন্ত্রণ করে তাকেই শক্তি বলে। রেল ইঞ্জিন একটা পদার্থ। ইঞ্জিনটি যখন চলতে শুরু করেন তখন ওর মধ্যে একটি শক্তির আবির্ভাব ঘটে। শক্তির বিকাশ এর ফলেই পদার্থের গতি এবং স্থিতি হয়, পদার্থকে তাই শক্তির বাহক বলে।

শক্তির সংজ্ঞা:

বস্তুর কাজ করার সামর্থ্যকে শক্তি বলে। শক্তি দেখা যায় না, এর উপস্থিতি বস্তুর মধ্যে কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করলে বুঝতে পারা যায়। যেমন তাপ একটি শক্তি। পদার্থের উপর এর প্রভাব পদার্থটির উষ্ণতার পরিবর্তন প্রসারণ ইত্যাদি দেখে আমরা বুঝতে পারি। বিদ্যুৎ একটি শক্তি; এর অস্তিত্ব আমরা বুঝতে পারি যখন কোনো বৈদ্যুতিক পাখাকে এই শক্তি দ্বারা ঘোরানো হয়।

শক্তি মূলত এক কিন্তু শক্তির কতগুলো রূপ আমরা সাধারণত দেখতে পাই যেমন–

যান্ত্রিক শক্তি:( Mechanical energy in Bengali)

কোন গতিশীল বস্তু তার গতির জন্য তার স্থির অবস্থায় আসার আগে পর্যন্ত কিছু কার্য করতে পারে। যেমন একটা লোহার ভারী গোলক গড়িয়ে আসছে। ওর সামনে একটা ছোট টিনের বাক্স রেখে দিলে দেখা যাবে বাক্সটিকে গোলকটি অনেকটা ঠেলে নিয়ে গেল। গোলকটি স্থির থাকলে এটা হতো না। কাজেই বলা যায় গতিশীল বস্তুর মধ্যে শক্তি আছে। একেই গতিশক্তি বলে।

পাঁচ তলা বাড়ির ছাদে লোহার ট্যাংকে জল ভর্তি আছে। ওখান থেকে পাইপের মধ্যে দিয়ে একতলায় স্নানের ঘরে জল আসে। জলের কলটি খুলে দিলে দেখবে বেগে জল পড়ছে। জলের এই স্রোতের মাঝে একটি দাঁতযুক্ত চাকা ধরলে দেখা যায় চাকাটি ঘুরছে। অর্থাৎ চাকাটি কার্য করতে শুরু করেছে। এর দ্বারা বোঝা যায় পাঁচতলায় ছাদের ট্যাংকের জল স্থির অবস্থায় থাকলেও ওই উঁচু জায়গায় থাকার জন্য স্থির অবস্থাতেও জলের মধ্যে কিছু শক্তি সঞ্চিত আছে। স্থির অবস্থায় থাকাকালে কোন বস্তুর মধ্যে নিহিত এই শক্তি হল স্থিতিশক্তি

যান্ত্রিক শক্তির সংজ্ঞাঃ

গতিশক্তি এবং স্থিতিশক্তিকে একসঙ্গে যান্ত্রিক শক্তি বলা হয়। কোন বস্তুর যান্ত্রিক কার্য করার সামর্থ্যকে যান্ত্রিক শক্তি বলে। যান্ত্রিক শক্তিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় স্থিতিশক্তি ও গতিশক্তি

স্থিতিশক্তির সংজ্ঞা (Potential Energy in Bengali)

কোন বস্তুকে স্বাভাবিক অবস্থানে থেকে পারিপার্শ্বিক এর তুলনায় কোনো বিশেষ অবস্থানে আনলে ওর মধ্যে কার্য করার যে সামর্থ্য জন্মে তাকে ঐ বস্তুর স্থিতিশক্তি বলে। স্বাভাবিক অবস্থানে থেকে কোন বস্তুর অবস্থান পরিবর্তন করার জন্য বস্তুটিকে যতটা কার্য করতে হয় তাই হল স্থিতি শক্তির মান।
স্থিতি শক্তির পরিমাপ একটি বস্তুকে মাটি থেকে নির্দিষ্ট খাড়া উচ্চতায় নিয়ে গেলে ওর মধ্যে কতটা স্থিতিশক্তি আছে তা এইভাবে পরিমাপ করা যায়-
ধরি m ভর বিশিষ্ট একটি বস্তুকে অভিকর্ষের বিরুদ্ধে এই উচ্চতায় খাড়াভাবে তোলা হলো। বস্তুটিকে h উচ্চতায় তুলতে যে কার্য করা হয়েছে তা বস্তুটির মধ্যে স্থিতি শক্তি রূপে সঞ্চিত আছে। এখন বস্তুটিকে ছেড়ে দিলে স্থিতি শক্তির জন্য বস্তুটি মাটির দিকে পড়তে শুরু করবে।
অতএব h উচ্চতায় বস্তুটির স্থিতিশক্তি = ওই উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য সম্পাদিত কার্য
এখন কার্য = বল ×সরণ
এক্ষেত্রে বল = বস্তুর ওজন =mg এবং সরণ=h
সুতরাং সম্পাদিত কার্য সমান mgh অর্থাৎ বস্তুর স্থিতিশক্তি mgh

গতিশক্তি ( Kinetic Energy in Bengali)

গতিশীল অবস্থায় থাকার জন্য বস্তুর মধ্যে কার্য করার যে সামর্থ্য জন্মে তাকে ঐ বস্তুর গতিশক্তি বলে।
গতিশক্তির পরিমাপ
একটি সচল বস্তুকে বলপ্রয়োগ করে থামাতে গেলে বস্তুটি থেমে যাওয়ার আগের মুহূর্তপর্যন্ত ওই বলের বিরুদ্ধে যতখানি কার্য করবে তাই হবে বস্তুটির গতিশক্তি পরিমাপ।
ধরি m ভর বিশিষ্ট একটি বস্তু v বেগে চলছে।
বস্তুটিকে p বল দ্বারা গতি শূন্য করলে বস্তুটির থেমে যাওয়ার পূর্বে ওই প্রযুক্ত বলের বিরুদ্ধে যে পরিমান কাজ করে তাই হল বস্তুটির গতিশক্তি সমান।
বস্তুটির গতিশক্তি = ½ ভর×বেগ² =½ mv²

শক্তির প্রকারভেদ (Classification of Energy in Bengali)

শক্তি বিভিন্ন প্রকারের হয়। যেমন তাপ শক্তি, শব্দ শক্তি, আলোক শক্তি, চুম্বক শক্তি, তড়িৎশক্তি, রাসায়নিক শক্তি, পারমাণবিক শক্তি ইত্যাদি। শক্তিকে বিভিন্নরূপে পরিবর্তন করা যায়। এই পরিবর্তনকে শক্তির রূপান্তর বলা হয়।

আলোক শক্তি

তাপ শক্তির সংজ্ঞাঃ

তাপের কাজ করার ক্ষমতা আছে যেমন জলে তাপ প্রয়োগ করে স্টিম উৎপন্ন করা হয়। এই স্টিম পিস্টনকে ঠেলে স্টিম ইঞ্জিন চালায়। তাছাড়া তাপ পদার্থের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারে। তাই তাপও একরকম শক্তি।

শব্দ শক্তির সংজ্ঞাঃ

যুদ্ধের সময় দেখা যায় বোমা পড়লে শুধু প্রচন্ড শব্দে কাচের জানালা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। শব্দ যে মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যায় সেই মাধ্যমের কণাগুলোকে বিচলিত করে ওই মাধ্যমে তরঙ্গের সৃষ্টি করে এবং এই ভাবেই শব্দ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তাই বলা যায় শব্দ ও একরকম শক্তি।

আলোক শক্তির সংজ্ঞাঃ

আলোক একরকম শক্তি আলোকের সাহায্যে অনেক রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটানো যায়। কয়েকটি ধাতুর উপর আলো পড়লে ওই ধাতুতে তড়িৎ প্রবাহ হয়।

চৌম্বক শক্তির সংজ্ঞাঃ

একটি লোহার পেরেককে চুম্বক কাছে টানতে পারে। কারখানায় দেখা যায় বড় বড় লোহার রেলকে তড়িৎ চুম্বক ক্রেনের সাহায্যে তুলে নিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যায়।

তড়িৎ শক্তির সংজ্ঞাঃ

তড়িৎ একরকম শক্তি। এর দ্বারা অনেক কার্য করা হয়। তড়িৎ শক্তি পাখা ঘুরায় বৈদ্যুতিক আলো জ্বালায় বৈদ্যুতিক ট্রেনকে দ্রুত গতিতে এক দেশ থেকে অন্য দেশে নিয়ে যায়।

রাসায়নিক শক্তির সংজ্ঞাঃ

রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় শক্তি নির্গত হয়, এই শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি বলে। যেমন ব্যাটারীতে যে রাসায়নিক বিক্রিয়া হয় তা থেকেই তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি হয়।

পারমাণবিক শক্তির সংজ্ঞাঃ

ইউরেনিয়াম, প্লুটোনিয়া্‌ রেডিয়াম থোরিয়াম ইত্যাদি মৌলের পরমাণুর কেন্দ্রে যে নতুন মৌল উৎপন্ন হয় তার ভর আগের মৌলের ভরের চেয়ে সামান্য কমে যায়।যে পরিমাণ ভর কমে যায় সেই ঘরের সমতুল্য বিরাট শক্তির সৃষ্টি হয় একেই পারমাণবিক শক্তি বলে।

শক্তির নিত্যতা সূত্র বা শক্তির সংরক্ষনশীলতা (Law of Conservation of Energy in Bengali)

  • শক্তি এক রূপ থেকে অন্য একটি বা তার বেশি সংখ্যক রূপে পরিবর্তিত হতে পারে।
  • শক্তি সৃষ্টি করা যায় না বা শক্তিকে ধ্বংস করা ও যায় না। যেকোনো একরকম শক্তি রূপান্তরিত হলে সেই শক্তিকে সমপরিমাণ অন্য শক্তি রূপে দেখা যায়। বিশ্বের মোট শক্তির কোন তারতম্য হয় না। একেই শক্তির নিত্যতা সূত্র বা অবিনাশিতা সূত্র বলে।
  • শক্তির নিত্যতা বা অবিনাশিতা সূত্র সংজ্ঞা:
  • শক্তির সৃষ্টি বা বিনাশ নাই। শক্তি কেবল এক রূপ থেকে অন্য এক বা একাধিক রূপে রূপান্তরিত হতে পারে। মহাবিশ্বে মোট শক্তির পরিমাণ নির্দিষ্ট এবং অপরিবর্তনীয়।

শক্তির রূপান্তর (transformation of energy in bengali):

শক্তি এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হতে পারে। এই ঘটনাকে শক্তির রূপান্তর বলে। সব রকম শক্তি নানা রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
উদাহরণ-

স্থিতি শক্তির গতি শক্তিতে রূপান্তর এবং গতিশক্তির স্থিতি শক্তিতে রূপান্তর:

একটি পাথরের টুকরাকে পাঁচতলার ছাদের উপর রেখে দিলে পাথরটি স্থির অবস্থায় থাকে। এই অবস্থায় পাথরটিতে স্থিতি শক্তি থাকে। এখন পাথরটি মুক্তভাবে নিচে পড়তে দিলে পাথরটির স্থিতি শক্তি গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
একটি পাথরের টুকরোকে খুব জোরে ঠিক লম্বাভাবে উপরের দিকে ছুড়ে দিলে যত উপরে উঠবে এর গতি ক্রমশ অভিকর্ষ বলের প্রভাবে কমতে থাকবে । এর গতিশক্তি তত কমতে থাকবে এবং ওই হ্রাস পাওয়া গতি শক্তি স্থিতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয় থাকে। সর্বোচ্চ অবস্থায় এলে পাথরটি মুহূর্তের জন্য অস্থির হয়ে যায়। ওই অবস্থায় ওর গতিশক্তি সম্পূর্ণভাবে স্থিতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তরঅন্য শক্তিতে

  • যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর তাপ শক্তিতে
  • হাতে হাত ঘষলে হাতের তালু দুটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এখানে হাতের গতি শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
  • যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর তড়িৎ শক্তিতে
  • ডায়নামো ঘোরার ফলে ডায়নামোর যান্ত্রিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর শব্দ শক্তি
একটি কাসার বাটির গায়ে কাঠের হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে বাটির কিনারা কাঁপতে থাকে এবং শব্দ উৎপন্ন হয়। এখানে বাটির যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর তাপ শক্তি এবং আলোক শক্তি:
ঘূর্ণায়মান শান দেওয়ার চাকায় ছুরি-কাঁচি ধরলে সেগুলো উত্তপ্ত হয়ে আলোর ফুলকি উৎপন্ন করে। এখানে শান দেওয়ার চাকার যান্ত্রিক শক্তি তাপ এবং আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তরচৌম্বক শক্তি্তে:
একটি লোহার দন্ড চুম্বক দ্বারা উপযুক্ত পদ্ধতিতে ঘর্ষণ করলে লোহা চুম্বকে পরিণত হয়।

তাপ শক্তির রূপান্তর অন্য শক্তিতে

তাপ শক্তির রূপান্তর গতি শক্তিতে:
রেল ইঞ্জিনে কয়লা পুড়িয়ে যে তাপশক্তি উৎপন্ন হয় সেই তাপশক্তি জলকে বাষ্পে পরিণত করে বাস্পের চাপে পিষ্টনের চাকা ঘোরায়। এখানে তাপ শক্তি গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

তাপ শক্তির রূপান্তর রাসায়নিক শক্তিতে

পটাশিয়াম ক্লোরেটকে উত্তপ্ত না করলে বিয়োজিত হয় না। উত্তপ্ত করলে বিয়োজিত হয়ে পটাশিয়াম ক্লোরাইড এবং অক্সিজেন গ্যাস উৎপন্ন করে। এখানে তাপ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

তাপ শক্তির রূপান্তর আলোক শক্তিতে
সরু প্লাটিনাম তারকে খুব উত্তপ্ত করলে তারটি উজ্জ্বল আলো বিকিরণ করে। এখানে তাপশক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

তাপ শক্তির রূপান্তর বিদ্যুৎ শক্তিতে
তামার পাত ও লোহার পাত দুটি প্রান্তদয় জোড়া লাগিয়ে কোন একটি জোড়ের মুখে বার্নার দিয়ে উত্তপ্ত করলে তামা থেকে লোহার দিকে তড়িৎ প্রবাহিত হয়। এখানে তাপ শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

তড়িৎ শক্তির অন্য শক্তিতে রূপান্তর

তড়িৎ শক্তির রূপান্তরযান্ত্রিক শক্তি তে
বৈদ্যুতিক পাখার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করলে পাখাটি ঘুরতে থাকে।এখানে তড়িৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে (গতি শক্তি) রূপান্তরিত হয়।

আলোক শক্তির অন্য শক্তিতে রূপান্তর

তড়িৎ শক্তির রূপান্তর তাপ শক্তিতে
বৈদ্যুতিক হিটার এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করলে হিটারের তার খুব উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এখানে তড়িৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

তড়িৎ শক্তির রূপান্তর আলোক শক্তি
বৈদ্যুতিক বাল্ব এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ হলে আলোর সৃষ্টি হয়। এখানে তড়িৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

তড়িৎ শক্তির রূপান্তর শব্দ শক্তি
রেডিও বৈদ্যুতিক ঘন্টা প্রভৃতি যন্ত্রের তড়িৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

তড়িৎ শক্তির রূপান্তর চুম্বক শক্তিতে
একটি কাঁচা লোহাকে আন্তরিত তার দিয়ে জড়িয়ে তারের মধ্যে তড়িৎ প্রবাহ চালনা করলে চুম্বক এ পরিণত হয়। এখানে তড়িৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

আলোকশক্তির রূপান্তর অন্য শক্তিতে

আলোক শক্তির রূপান্তর তড়িৎ শক্তিতে
ফটোইলেকট্রিক কোষে আলো পড়লে তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি করে।


আলোক শক্তির রূপান্তর রাসায়নিক শক্তিতে
হাইড্রোজেন ও ক্লোরিন গ্যাস দুটি মিশিয়ে সূর্যালোকে রাখলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস উৎপন্ন করে।

গাছের পাতা সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সাহায্যে বাতাসের কার্বন-ডাইঅক্সাইড এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে জল উৎপন্ন করে।

চৌম্বক শক্তির রূপান্তর অন্য শক্তিতে

চুম্বক শক্তির রূপান্তর যান্ত্রিকতে
আয়রন চরণের কাছে চুম্বকের কোন মেরু আনলে আয়রন চুলগুলি আকৃষ্ট হয়ে চুম্বকের গায়ে লেগে যায় এখানে চুম্বক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

চুম্বক শক্তির রূপান্তর তাপ শক্তিতে
একটি লোহার দন্ড কে বারবার চুম্বকিত করলে এবং বিচার করলে লোহার দন্ড টি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

চুম্বক শক্তির রূপান্তর তড়িৎ শক্তিতে
চুম্বকেরচৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে দিয়ে একটি পরিবাহী তারের কুণ্ডলী ঘোরালে তাদের মধ্যে দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ হয়।

রাসায়নিক শক্তির রূপান্তর অন্য শক্তিতে

রাসায়নিক শক্তির রূপান্তর তাপ শক্তি
একটি টেক্সট টিউবের মধ্যে সামান্য শুষ্ক পটাশিয়াম পার ম্যাঙ্গানেট গুড়ো দিয়ে ওর সঙ্গে দু ফোটা গ্লিসারিন যোগ করলে কিছুক্ষণের মধ্যে খুব উত্তপ্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। এখানে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

রাসায়নিক শক্তির রূপান্তর শব্দ শক্তিতে
বারুদের মসলায় প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করলে প্রচন্ড বিস্ফোরণ ঘটে রাসায়নিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

শব্দ শক্তি রূপান্তর অন্য শক্তিতে

শব্দ শক্তির রূপান্তরযান্ত্রিক শক্তিতে
বিস্ফোরণের প্রচন্ড শব্দে জানালার কাচ ভেঙে যায় এটা হল শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হয় ।

শব্দ শক্তির রূপান্তর তড়িৎ শক্তিতে
টেলিফোনের প্রেরক যন্ত্র এর কাছে কথা বললে ওর ধাতব ডায়াফ্রাম কাঁপতে থাকে। এর ফলে ডায়াফ্রামের কাছে রাখা চুম্বকের বলরেখার পরিবর্তন ঘটে। এইভাবে চৌম্বক বলরেখার পরিবর্তনের ফলে ওর মধ্যে রাখা পরিবাহী তারের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ হয়।

পারমাণবিক শক্তির রূপান্তর অন্য শক্তিতে

পারমাণবিক শক্তির রূপান্তর তাপ শক্তিতে
পরমাণুর কেন্দ্র ভাঙলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয় এভাবে পারমাণবিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

পারমাণবিক শক্তির রূপান্তর যান্ত্রিক শক্তিতে
পারমাণবিক বোমা ফাটলে যে প্রচন্ড বিস্ফোরণ হয় তাতে ঘরবাড়ি ধ্বংস হয় এখানে পারমাণবিক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

পারমাণবিক শক্তির রূপান্তর তড়িৎ শক্তিতে
পরমাণুর কেন্দ্র বিভাজন করলে যে প্রচণ্ড তাপ শক্তি পাওয়া যায় তার দ্বারা জলকে উত্তপ্ত করে স্ট্রিম উৎপন্ন করা হয় এবং সেই স্ট্রিম এর সাহায্যে ডায়নামো চালিয়ে তড়িৎ শক্তি উৎপন্ন করা হয়।

সব শক্তির উৎস সূর্য (The Sun – Source of Energy in Bengali)

শক্তির উৎস সম্বন্ধে আলোচনা করতে হলে আগেই নাম আছে সূর্যের । সূর্য থেকে শক্তি সরাসরি আমাদের কাছে আসে না।
সূর্য থেকে তাপ শক্তি নিয়ে সমুদ্রের জল বাস্পে পরিণত হয় সেই বাষ্প মেঘলা আকাশে উঠে বৃষ্টি হয়ে মাটিতে পড়ে। আবার বড় পর্বত চূড়ায় জমা হয় । সেখান থেকে নদীরূপে সমতলের নেমে আসে। নদীর জল নিচে নামার সময় গতিশক্তি লাভ করে। জলের এই গতি শক্তি দিয়ে ডায়নামোর চাকা ঘুরিয়ে তড়িৎ শক্তি উৎপন্ন করা হয়। সেই তড়িৎ শক্তি আমাদের ঘরের আলো জ্বালায় অর্থাৎ আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়; ঘরের পাখা ঘোড়ায় অর্থাৎ গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
পৃথিবীতে কাঠ কয়লা পেট্রোলিয়াম থেকে আমরা তাপ শক্তি পাই এবং এই তাপ শক্তিকে রূপান্তরিত করে অন্যান্য শক্তি পাওয়া যায়। এই কাঠ-কয়লা পেট্রোলিয়াম পৃথিবীতে পাওযার মূলে আছে সূর্য। উদ্ভিদ সূর্যের কিরণে রাসায়নিক শক্তি দ্বারা খাবার তৈরি করে নিজের দেহ পুষ্ট করে। সুতরাং গাছ থেকে যে কাঠ পাওয়া যায় তার মধ্যে সূর্যের শক্তি থাকে, কাঠকে পোড়ালে ওই শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে বেরিয়ে আসে। এই উদ্ভিদ দ্বারা পুষ্ট প্রাণী মাটির নিচে হাজার হাজার বছর চাপা থাকলে ওইগুলো যথাক্রমে কয়লা ও খনিজ তেলে পরিণত হয়। কাজেই কয়লা বা খনিজ তেল থেকে যে তাপ শক্তি পাওয়া যায় তাও সূর্য থেকে আসে।

সব শক্তির উৎস সূর্য

বর্তমানে সূর্যের তাপ শক্তিকে সরাসরি কাজে লাগাবার জন্য সৌরচুল্লি তৈরি করা হয়েছে। সৌরশক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ শক্তি পাওয়ার ব্যবস্থা বর্তমানে করা হয়েছে সৌরকোষে। সূর্য থেকে পাওয়া তাপের প্রভাবে বায়ু প্রবাহ সৃষ্টি হয়। বায়ু প্রবাহের সাহায্যে বায়ুচালিত নানারকম কল চালনা করা যায়।
সুতরাং দেখা গেলো সূর্য শক্তির উৎস।

সৌর শক্তির উৎস

সূর্যের ভেতরে অবস্থিত পদার্থ গুলির পরমাণু কেন্দ্র সর্বদা ভাঙতে থাকে। এর ফলে পরমাণুর ভর, শক্তিতে রূপান্তরিত হয় প্রচন্ড তাপশক্তি উৎপন্ন করে। সূর্যে পদার্থ গুলির নিউক্লিয়াসের বিভাজন এর ফলে পারমাণবিক শক্তির যে বিপুল তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় তার 200 কোটি ভাগের এক ভাগ মাত্র পৃথিবীতে আসে।

কোন কোন শক্তি সূর্য থেকে আসে না

কতগুলি মৌলিক পদার্থের পরমাণুর কেন্দ্রকে বিভাজন করলে উৎপন্ন পরমাণু গুলির মোট ভর পূর্বের ভরের চেয়ে কমে যায়। তখন এই কমে যাওয়া ভর এর সমতুল্য এক শক্তির সৃষ্টি হয়। একেই পারমাণবিক শক্তি বলে। এই সব শক্তি সৃষ্টিতে কিন্তু সূর্যের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো প্রভাব নেই। এছাড়া পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তাপ শক্তি ও সূর্য থেকে আসে না।

  • বর্তমান মত অনুযায়ী পদার্থ বা ভর এবং শক্তি আলাদা নয়। পদার্থ কে ধ্বংস করে বিপুল শক্তি পাওয়া যায়।

image source ঃ unsplash.com

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

You may also like

Leave a Comment