Home জীবন বিজ্ঞান ব্যাপন ও অভিস্রবণ | পার্থক্য এবং গুরুত্ব | প্রকারভেদ

ব্যাপন ও অভিস্রবণ | পার্থক্য এবং গুরুত্ব | প্রকারভেদ

by CompleteGyan
কোশের মধ্যে ব্যাপন অভিস্রবণ


ব্যাপন এবং অভিস্রবণ আমাদের শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ সম্পূর্ণ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই আলোচনা পর্বে আমরা ব্যাপন এবং অভিস্রবণ; ব্যাপন ও অভিস্রবণের পার্থক্য নিয়ে বিস্তর আলোচনা করব। সমস্ত জীব দেহ কোষ এবং ও আন্তর কোষীয় বস্তু দিয়ে গঠিত। কোষীয় এবং আন্তর কোষীয় বিভিন্ন পদার্থ জলীয় দ্রবণ এবং ওই উপাদানগুলি গুণগত ও পরিমাণগত ভাবে আলাদা। এই আন্তঃকোষীয় তরল দুটি কোষ এর মধ্যবর্তী স্থানে থাকে এবং বিশেষ বাহের মধ্যেও থাকে। একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝি।—

কোষ এবং অন্তর্গত তরলের মধ্যে সবসময় কোষ পর্দার মধ্যে দিয়েই জল এবং কিছু পদার্থের বিনিময় হয়ে থাকে।যেমন রক্তজালক এর মধ্যে রক্ত থেকে অক্সিজেন ও পুষ্টি বস্তুর আন্তঃকোষীয় চলে যায় এবং সেখান থেকে কোষের মধ্যে প্রবেশ করে।অপরপক্ষে কোষ থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড এবং বিপাকীয় বর্জ্যপদার্থ আন্তঃকোষীয় চলে আসে এবং সেখান থেকে রক্তে প্রবেশ করে। এই রক্ত যখন ফুসফুসে চলে আসে তখন রক্ত থেকে আবার কার্বন-ডাই-অক্সাইড ফুসফুসের বায়ুথলির বায়ুতে যায় এবং বায়ুথলির অক্সিজেন রক্তের মধ্যে চলে আসে।এভাবে কোষ পর্দা এবং চালকের পর্দার মধ্যে দিয়ে সব সময়ে জলবায়ু এবং বিভিন্ন পদার্থ চলাচল করে। ভৌতিক এবং অন্যান্য প্রক্রিয়ার সাহায্যে আদান-প্রদান চলে। ব্যাপন, অভিস্রবণ ও পরিবহন ইত্যাদি প্রক্রিয়া এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

ব্যাপন

ব্যাপন
ব্যাপন


ব্যাপনের সংজ্ঞা

পদার্থের অণুগুলো নিজস্ব গতি শক্তিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সব দিকে ছড়িয়ে পড়তে চাই এই ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতাকে ব্যাপন বলে। দুটি অংশের ঘনত্বের তারতম্য থাকলে ব্যাপনের হার অধিক ঘনত্ব থেকে কম ঘনত্বের দিকে বেশি হয়। অর্থাৎ ব্যাপনের হার এক দিকে বেশি হয়। যখন দুটি অংশের ঘনত্ব সমান হয়ে যায় তখন সমসংখ্যক অনু সমান গতিতে দু’দিকে চলাচল করে। অর্থাৎ ওই সময় ব্যাপনের হার দু’দিকেই সমান হয়ে থাকে।

ব্যাপন চাপ কি

ব্যাপন এ অংশগ্রহণকারী অনুগুলি যে চাপ তৈরি করে অধিক ঘনত্ব থেকে কম ঘনত্বের দিকে যায় সেই চাপকে ব্যাপন চাপ বলা হয়। কম ঘনত্ব যুক্ত পদার্থ এর তুলনায় অধিক ঘনত্ব যুক্ত পদার্থের ব্যাপন চাপ বেশি হয় বলে পদার্থের অণুগুলো কম ঘনত্বের দিকে যায়। দু’দিকের ঘনত্ব সমান হয়ে গেলে দুদিকের ব্যাপন চাপ সমান হয়ে যায়। তখন সমান হারে একদিক থেকে অপরদিকে অনুগুলির চলাচল করে। সুতরাং নিট ব্যাপন তখন শূন্য হয়।


ব্যাপনের প্রভাবক

  • নিচের কারণগুলি ব্যাপন ক্রিয়া কে প্রভাবিত করে
  • অনুগুলির দ্রবণীয়তা, গাঢ়ত্বের নতিমাত্রা, গ্যাসীয় চাপের নতিমাত্রা বা তড়িৎ নতিমাত্রা সঙ্গে ব্যাপনের হার সমানুপাতিক।
  • মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং ব্যাপন তল বেশি হলে ব্যাপনের হার বেশি হয়। ১। বিভিন্ন লবণ দ্রবণের ব্যাপনের হার ভিন্ন।
  • ২। কলয়েড পদার্থ এর চেয়ে কেলাস পদার্থের ব্যাপন হার বেশি।
  • মাধ্যমের আর্দ্রতা বেশি হলে, ঝিল্লি পর্দা পুরো হলে এবং অনগুলির ব্যাস বেশি হলে ব্যাপনের হার কম হয়।
  • অনুগুলি গোলাকার হলে ব্যাপনের হার বেশি হয় কিন্তু সেগুলি লম্বা ধরনের হলে বেশি বাধা পায় তাই ব্যাপনের হার কম হয়।
  • আয়নের ক্ষেত্রে ঝিল্লিপর্দার ছিদ্রের তড়িৎ অবস্থা এবং আয়নের তড়িৎ অবস্থার উপর ব্যাপনের হার নির্ভর করে। যদি দুটি তড়িৎ অবস্থা এক হয় তাহলে ব্যাপনের হার কমে যায়। আর যদি বিপরীত হয় তাহলে বেশি হয়।


ব্যাপনের শারীরবৃত্তীয় গুরুত্ব

  • কোন জীবের বেঁচে থাকার জন্য ব্যাপনের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে বিশেষ কিছু ব্যাপনের গুরুত্ব পয়েন্ট আকারে দেওয়া হল।
  • গাঢ়ত্বের তারতম্যের উপর ভিত্তি করে কোষঝিল্লির মধ্যে বিভিন্ন বস্তুর আদান-প্রদান
  • অন্ত্র থেকে বিশেষ খাদ্যবস্তু যেমন পেন্টোজ জলে দ্রবণীয় ভিটামিনের শোষণ।
  • কোষ পর্দার মধ্য দিয়ে শ্বসন গ্যাসের আদান-প্রদান বিক্রিয়ার মাধ্যমে হয়। দৈহিক পরিশ্রম করলে শ্বসনের গভীরতা বেড়ে যায়।এর ফলে বায়ুথলির আয়তন বড় হয় এবং বায়ুথলির পর্দা পাতলা হয়ে যায়।এর ফলে ব্যাপনের হার বেড়ে যায় ফলে দেহ কোষে অক্সিজেন বেশি যায় এবং সেখান থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাইরে বেরিয়ে আসে
  • এই কারনেই শারীরবৃত্তীয় কাজে ব্যাপনের গুরুত্ব অপরিসীম ।


অভিস্রবণ

কোশের মধ্যে অভিস্রবণ
কোশের মধ্যে অভিস্রবণ


অভিস্রবণের সংজ্ঞা


একই দ্রাবকের দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ অথবা দ্রবণ ও বিশুদ্ধ দ্রাবককে অর্ধভেদ্য পর্দা দিয়ে আলাদা করে রাখলে কম ঘনত্বের দ্রাবক বেশি ঘনত্বের দ্রবণের দিকে অথবা বিশুদ্ধ দ্রাবক দ্রবণের দিকে যায়। দ্রাবকের এই চলনকে অভিস্রবণ বা অসমোসিস বলে।


অভিস্রবণ চাপ


দ্রবন ও দ্রাব্যতা ভেদ্য পর্দা দিয়ে আলাদা করে রাখলে দ্রাবক দ্রবণের দিকে যাবে।মেয়ের দিকে যে পরিমাণ চাপ দিলে এই দ্রাবকের চলন আটকানো যায় তাকে ওই দ্রবণের অভিস্রবণ চাপ বলে। এই চাপকে Atmosphere mmHg তে প্রকাশ করা হয়। এই চাপকে অভিস্রবণীয় বিভব বলে।
দ্রবণের ঘনত্বের সঙ্গে অভিস্রবণ চাপ সমানুপাতিক।


অভিস্রবণের প্রকারভেদ

অভিস্রবণ দুই প্রকার যথা
১। অন্তঃ অভিস্রবণ
২। বহিঃ অভিস্রবণ

কোষের ভিতরে ও বাইরে অবস্থিত দ্রবণের ঘনত্বের তারতম্য হলে দ্রাবক অভিস্রবণ প্রক্রিয়া কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে বেশি ঘনত্বের দ্রবণ এর দিকে যায়। জীব দেহের মধ্যে এই দ্রবণের দ্রাবক হলো জল। তাই অভিস্রবণ প্রক্রিয়ার সাহায্যে জল কোষ পর্দার মধ্যে দিয়ে উভয় দিকে চলাচল করে।


অন্তঃ অভিস্রবণের সংজ্ঞা


কোষের বাইরে অবস্থিত দ্রবণের ঘনত্ব কোষের মধ্যে দ্রবণের ঘনত্বের চেয়ে কম হলে বাইরে থেকে জল কোষ পর্দার মধ্যে দিয়ে অভিস্রবণ প্রক্রিয়া কোষের ভিতরে আসে। একে অন্তঃ অভিস্রবণ বলে। এর ফলে কোষের আয়তন বাড়ে এবং কোষীয় দ্রবণের ঘনত্ব ও অভিস্রবণ চাপ কমে।


বহিঃ অভিস্রব
ণের সংজ্ঞা


কোষের বাইরে অবস্থিত দ্রবণের ঘনত্ব কোষের মধ্যে দ্রবণের ঘনত্বের চাইতে বেশী হলে জলকোষ পর্দার মধ্যে দিয়ে কোষের ভিতরে থেকে বাইরে চলে আসে একে বহিঃ অভিস্রবণ বলে।এর ফলে কোষের আয়তন ছোট হয়ে যায় এবং কোষীয় দ্রবণের ঘনত্ব ও অভিস্রবণ চাপ বেড়ে যায়।
অভিস্রবণ এর প্রকারভেদ আরো বিস্তারিত ভাবে জানতে হলে প্রথমে আমাদেরকে দ্রবণ সম্বন্ধে বেসিক ধারণা দরকার। নিচে দ্রবণ নিয়ে অল্প বিস্তর আলোচনা করা হলো


বিভিন্ন প্রকার দ্রবন

অর্ধভেদ্য পর্দা


যে পর্দার মধ্য দিয়ে দ্রাবক এবং দ্রাব্য উভয়ই যেতে পারে তাকে ভেদ্য পর্দা বলে। যে পর্দার মধ্য দিয়ে শুধুমাত্র দ্রাবক যেতে পারে তাকে অর্ধভেদ্য পর্দা বলে। সজীব কোষের প্লাজমা পর্দা সঠিকভাবে অর্ধভেদ্য নয় এর নিজস্ব ভেদ্যতা আছে। এই কারণে দেহতরল এর ক্ষেত্রে টোনিসিটি শব্দ ব্যবহার করা হয়। দ্রবণের মধ্যে ভেদ্য এবং অভেদ্য দ্রব্যের পরিমাণের উপর অভিস্রবণত্ব নির্ভর করে। অপরপক্ষে দ্রবণের মধ্যে অভেদ্য দ্রব্যের পরিমাণের উপর সারকত্ব নির্ভর করে।দুটি দ্রবণের মধ্যে অভিস্রবণ সমান হলেও তাদের মধ্যে টোনিসিটি সমান নাও হতে পারে।


সমসারক দ্রবন


দুটি দ্রবণের সারকত্ব সমান হলে এদের সমসারক দ্রবন বলে। একটি সজীব কোষ কে সমসারক দ্রবণে রাখলে কষ্টের আকৃতির কোন পরিবর্তন হয়না।


অতিসারক এবং লঘুসারক দ্রবণ


দুটি দ্রবণের মধ্যে সারকত্বের তারতম্য থাকলে অধিক টোনিসিটির দ্রবণটিকে অপরটির তুলনায় অতি সারক দ্রবণ বলে আর কম টোনসিটির দ্রবণটি কে অন্যটির তুলনায় লঘুসারক দ্রবন বলে একটি সজীব কোচকে অতি স্মারক দ্রবণে রাখলে কোষের ভেতর থেকে জল বা দ্রাবক অভিস্রবণ প্রক্রিয়া এর জন্য কোষের বাইরে বেরিয়ে আসে। ফলে কোশটি সংকুচিত হয়। এই অবস্থায় লোহিত রক্তকণিকা চুপসে যায়। অপরপক্ষে একটি সজীব কোষ কে লঘুসারক দ্রবণে রাখলে অন্ত অভিস্রবণ প্রক্রিয়া জন্য জলবা দ্রাবক কোষের মধ্যে চলে আসে।ফলে কষ্টের আয়তন বেড়ে যায় এবং কোষ পর্দা ফেটে গিয়ে কোষ থেকে হিমোগ্লোবিন বাইরে বেরিয়ে আসে।


প্লাজমোলাইসিস ও ডিপ্লাজমোলাইসিস


প্লাজমোলাইসিস


একটি সজীব উদ্ভিদ কোষকে অতিসারক দ্রবণে রাখলে কোষের ভেতরে থেকে জল বহিঃ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় বাইরে বেরিয়ে আসে। ফলে কোষের প্রোটোপ্লাজম সংকুচিত হয় এবং কোষ পর্দা ও কোষ প্রাচীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসে। কোষের এই অবস্থাকে প্লাজমোলাইসিস বলে।প্রোটোপ্লাজম সংকুচিত এই কোষকে প্লাজমোলাইসড বলে । প্লাজমোলাইসিস এর প্রথম অবস্থায় যখন কোষ থেকে জল বেরিয়ে আসে কিন্তু প্রোটোপ্লাজম কোষ পর্দা থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না তখন এই ঘটনাকে প্রারম্ভিক প্লাজমোলাইসিস বলে।


ডিপ্লাজমোলাইসিস


প্লাজমোলাইসিস কোষকে লঘুসারক দ্রবণে রাখলে অন্তঃ অভিস্রবণ প্রক্রিয়া বাইরে থেকে জল কোষের মধ্যে প্রবেশ করে। ফলে কোষটি রসস্ফীতি হয়। এবং প্রোটোপ্লাজম আবার আগের মতো কোষ প্রাচীর এর সঙ্গে যুক্ত হয়। কোষের এই অবস্থাকে ডিপ্লাজমোলাইসিস বলে। এই কোষকে ডিপ্লাজমোলাইসড বলে ।


অভিস্রবণের গুরুত্ব

  • নিন্মোক্ত পয়েন্টের মাধ্যমে অভিস্রবণের গুরুত্ব আলোচনা করা হলো—
  • মাটি থেকে মূলরোম এর সাহায্যে জল শোষণ ও অভিস্রবণ এর মাধ্যমে ঘটে।
  • প্রশান্তর অভিস্রবণ প্রক্রিয়া সাহায্যে জল থেকে সজীব কোষে যায়।
  • অভিস্রবণ পদ্ধতির সাহায্যে কোষ স্ফীত বা সংকুচিত হতে পারে।
  • কোষের একাধিক চলন অভিস্রবণ এর উপর নির্ভরশীল।
  • ফল বিদারণের সময় অভিস্রবণ প্রক্রিয়া বিশেষভাবে সাহায্য করে।
  • অভিস্রবণ এর ফলে উদ্ভিদ কোষে প্লাজমোলাইসিস প্লাজমোলাইসিস ঘটে আর লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোলাইসিস এবং ক্রিনেশান ঘটে।
  • কোষ পর্দার মধ্যে দিয়ে বালকের গাত্র দিয়ে জলের আদান-প্রদান, জলস্ফীতি চাপ, ও অভিস্রবণ চাপ এর উপর নির্ভরশীল। অন্ত অভিস্রবণ এর ফলে বিশোষিত জল কোষ পর্দার উপর বালকের কাতরে যে চাপ সৃষ্টি করে তাকে জলস্ফীতি চাপ বলে। অন্ত্র এবং বৃক্ষ নালিকা থেকে জলের যথাক্রমে শোষণে এবং পূনঃ শোষণে অভিস্রবণ চাপ বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
  • অন্ত অভিস্রবণ এর ফলে কোষটি রসস্ফীতি হয়। এই অবস্থায় কোষ প্রাচীরে যে চাপ সৃষ্টি হয় তাকে রসস্ফীতি চাপ বলে। এই চাপের ফলে এই গাছে জল দিলে কিছু গাছ সোজা হয়ে যায়। উদ্ভিদ ও প্রাণীর একাধিক শারীরবৃত্তীয় কাজে অভিস্রবণের গুরুত্ব অপরিসীম।


ব্যাপন ও অভিস্রবণের পার্থক্য

কোশের মধ্যে ব্যাপন অভিস্রবণ
কোশের মধ্যে ব্যাপন অভিস্রবণ

ব্যাপন ও অভিস্রবণ আমাদের দেহে খুবই গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয়। কিন্তু ব্যাপন ও অভিস্রবণের পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। তা নিম্নে বর্ণিত হলো।

ব্যাপনঅভিস্রবণ
পর্দার উপস্থিতি আবশ্যিক নয় । এটি মুক্ত অবস্থায় অথবা পর্দার মাধ্যমেও হতে পারে।অভিস্রবণ অর্ধভেদ্য পর্দা এর মাধ্যমে ঘটে মুক্ত অবস্থায় হয় না।
ব্যাপন প্রক্রিয়া তরলে- তরলে বা অন্য দ্রবণের মধ্যে ঘটে।এই প্রক্রিয়া কেবলমাত্র তরলে তরলে ঘটে।
ব্যাপন প্রক্রিয়ায় দ্রব্য এবং দ্রাবক বেশি ঘনত্ব থেকে কম ঘনত্বের দিকে যায়।এই প্রক্রিয়ায় কেবলমাত্র দ্রাবকের অনু দ্রাবকের কম ঘনত্ব থেকে বেশি ঘনত্বের দিকে যায়।
বিষম প্রকৃতির দ্রবণের মধ্যে ব্যাপন প্রক্রিয়া চলতে পারে।কেবল সদ প্রকৃতির দ্রবণের ভিতরে অভিস্রবণ ঘটে।
ব্যাপন ও অভিস্রবণ এর মধ্যে পার্থক্য


বহিঃ অভিস্রবণ ও অন্তঃ অভিস্রবণের মধ্যে পার্থক্য

বহিঃ অভিস্রবণঅন্তঃ অভিস্রবণ
কোষের ভিতরে থেকে দ্রাবক বা জল বেরিয়ে আসে।কোষের বাইরে থেকে দ্রাবক বা জল কোষের মধ্যে আসে।
বহিঃকোষীয় পরিবেশ অতিসারক হলে তবেই এই প্রক্রিয়া ঘটে।বহিঃকোষীয় পরিবেশ লঘুসারক হলে তবেই এই প্রক্রিয়া ঘটে।
প্রোটোপ্লাজম এর আয়তন কমে এবং কোশটি সংকুচিত হয়।প্রোটোপ্লাজম এর আয়তন বাড়ে এবং কোষটি স্ফীত হয়।
কোষের মধ্যে জলস্ফীতির চাপ কম হয়।কোষের মধ্যে জলস্ফীতি চাপ বেড়ে যায়।
বহিঃ অভিস্রবণ ও অন্তঃ অভিস্রবণের মধ্যে পার্থক্য


সহজ ব্যাপন এবং সহায়ক ব্যাপন এর মধ্যে পার্থক্য

সহজ ব্যাপনসহায়ক ব্যাপন
সহজ ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কোনো বাহক লাগেনা।সহায়ক ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বাহক লাগে।
এর নির্দিষ্টতা নেই। যে কোন বস্তুকে শোষণ বা পরিবহন করতে পারে।সহায়ক ব্যাপন এর নির্দিষ্টতা আছে। বিশেষ বস্তু কে বাহক এর সাহায্যে শোষণ বা পরিবহন করে।
সহজ ব্যাপন প্রক্রিয়ার হার দ্রুত নয়।সহায়ক ব্যাপন প্রক্রিয়ার হার দ্রুত।
সহজ ব্যাপন প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা বা প্রতিরোধ দেখা যায় না।এই প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা এবং প্রতিরোধ দেখা যায়।
সহজ ব্যাপন এবং সহায়ক ব্যাপন এর মধ্যে পার্থক্য

ছবির উৎস https://unsplash.com/ and https://www.gettyimages.in/

কনটেন্ট ঃ নির্মলা লাইব্রেরির “উচ্চমাধ্যমিক সমকালীন জীব বিদ্যা”

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

You may also like

Leave a Comment